ঢাকা ব্যুরো | সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদ বদল করা হয়েছে এবং এতে কোনো পক্ষ পাতিত্বের সুযোগ নেই—এমনটি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পরই নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় গেলেন।
বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন ও আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা নির্বাচন নিয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান তাঁরা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন-সম্পর্কিত যে কোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদ বদল করা হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হতেই হবে।
অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। এ ছাড়া ঝুঁকির আশঙ্কা আছে—এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এগুলো সব মনিটর করা হবে বলেও জানান তিনি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার আইন সম্মত ভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন,গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন “হ্যাঁ” ভোট দিলে কী হবে, আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, এই দায়িত্ব সকলের—সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।



